স্পোর্টস ডেস্ক : আইসিসি ইভেন্টের নকআউট পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার গল্পটা বিষাদময়। সারা আসরে দুর্দান্ত খেলেও নকআউটে, বিশেষ করে সেমিফাইনালে খেই হারিয়ে ফেলে প্রোটিয়ারা। ২০২৩ সাল পর্যন্ত সাতটি সেমিফাইনালে হেরেছে তারা। এজন্য ক্রিকেটের ‘চোকার’ নামটাও স্থায়ীভাবে সেঁটে যায় তাদের গায়ে। এ অপবাদ আর বদনাম ঘুচিয়ে দেয়ার সুযোগ এসেছে এবার। বৈশ্বিক আসরে অষ্টমবারের চেষ্টায় অবশেষে ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। এ পথে তারা থামিয়েছে আফগান রূপকথা। আগামীকাল নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে তাদের সামনে ভারত। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৬৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে রোহিত শর্মার দল।
শনিবার ব্রিজটাউনে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে দুই দল।
দক্ষিণ আফ্রিকা এবারই প্রথম ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। দলটি হারতে হারতে শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানকে পর্যুদস্ত করে ফাইনালে উঠেছে। তবে এবার ফাইনালে জেতাটা শামসিদের জন্য মোটেও সহজ হবে না। প্রতিপক্ষ যে ব্যাটিং ও বোলিং মিলিয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল ভারত। অন্যদিকে ফেভারিট দল ভারত ২০০৭ সালে একবার বিশ্বকাপ জিতেছে। এবারে দ্বিতীয়বারের মত কাপ জয়ের সম্ভাবনা ভারতের বেশী।
১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে এক ব্রায়ান লারার হাতেই শেষ দক্ষিণ আফ্রিকা। লারা ৯৪ বলে ১১১ রানের ক্ল্যাসিক ইনিংস খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৬৪ রানের পুঁজি গড়ে দেন। এ রান তাড়া করে ১৯ রানে হেরে যায় প্রোটিয়ারা। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপেও ট্র্যাজিক বিদায় ঘটে প্রোটিয়াদের। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সেমিফাইনালে ল্যান্স ক্লুজনার আর অ্যালান ডোনাল্ড দৌড়ে এক রান নিতে পারলেই ফাইনাল। অথচ অদ্ভুতুড়ে এক দৌড় দিয়ে ডোনাল্ড দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকলেন, আর প্রোটিয়াদেরও তীরে ওঠা হলো না। ম্যাচ ‘টাই’ হওয়ায় সুপার সিক্সে এগিয়ে থাকার সুবাদে ফাইনালের টিকিট পায় অস্ট্রেলিয়া। পরে চ্যাম্পিয়ন হয় অজিরা।
২০০৩ সালে নিজেদের মাঠে আরেকবার বিষাদময় বিদায়! হিসাবের ভুলে শ্রীলংকার সঙ্গে জেতা ম্যাচটি টাই করে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিল স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তারা।
এরপর ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে, ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে, ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ভারতের কাছে, ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ও ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরেছে প্রোটিয়ারা।
গত বছর ১৬ নভেম্বর কলকাতায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করার পর ৩ উইকেটে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই শোক ভুলে আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে দলটি। প্রোটিয়ারা এবার খালি হাতে ফিরতে চায় না। স্পিনার তাবরাইজ শামসি বলেন, আমরা কিন্তু শুধু ফাইনালে ওঠার জন্যই এখানে আসিনি। আমরা এখানে এসেছি ফাইনাল জেতার জন্য।’



