আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে অন্যতম শক্তিশালী সংগঠন ‘ওপেক’ এবং ‘ওপেক প্লাস’ থেকে বেরিয়ে গেল সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে দেশটির এ সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়।
ইউএই ১৯৬৭ সাল থেকে ওপেকের সদস্য। সৌদি আরব ও ইরাকের পর ইউএই ওপেকের তৃতীয় বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ।
দেশটির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এই জোটের জন্য এটি একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমন এক সময়ে আমিরাতের ঘোষণা এল যখন ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি একটি ঐতিহাসিক জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ওপেকের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে আমিরাতের এই প্রস্থান জোটটির একক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এদিকে হরমুজ প্রনালী বন্ধের কারনে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারে উঠেছে।
ওপেক মূলত সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করে। ইউএইর মতো একটি বড় উৎপাদনকারী দেশ বেরিয়ে গেলে ওপেকের সামগ্রিক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে। ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং দাম নির্ধারণে সংগঠনটির প্রভাব কমে আসতে পারে।
ইউএইর জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উৎপাদন নীতি ও সক্ষমতার বিস্তারিত পর্যালোচনার পর জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ঘোষণার পেছনে আঞ্চলিক উত্তেজনা বড় ভূমিকা রেখেছে। একই ওপেক সদস্য ইরান সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউএইর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি তেহরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধ ইউএইর তেল রফতানিকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে, যা দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তিকেই হুমকিতে ফেলেছে।



