ডেস্ক রিপোর্ট : ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে ‘আতশবাজি-ফানুস’ পোড়ানো বন্ধের সুপারিশ জানিয়েছে বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ক্যাপস আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ করা হয়।
নববর্ষ উদযাপনের সময় আতশবাজি পোড়ানোর কারণে বায়ু ও শব্দ দূষণের উপর বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ এবং আতশবাজি ও ফানুস মুক্ত নববর্ষ উদযাপনের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন ক্যাপসের চেয়ারম্যান ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার।
ক্যাপসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইংরেজি নববর্ষে আতশবাজি ও ফানুস পোড়ানোর সময় ২০২৩ সালে ৩৬ শতাংশ ও ২০২৪ সালে ৩৫ শতাংশ বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৭ থেকে ২০২৪ এই সময়ের মধ্যে বায়ুমান সূচক কখনোই ভালো অবস্থানে ছিল না। বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে ভালো বায়ু বলা হয়, সেক্ষেত্রে গত ৭ বছরে নির্দিষ্ট দুই দিনে (৩১ ডিসেম্বর এবং ১ জানুয়ারি) কখনোই বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে ছিল না।
এই বছর ৩১ ডিসেম্বর রাতে নববর্ষ উদযাপনের আগে ৩ ঘণ্টার গড় বায়ুমান হতে, নববর্ষ উদযাপনের শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর মানের অবনতি হতে শুরু করে। রাত ১২টা বাজার আগে থেকে আতশবাজি, ফানুস পোড়ানোর শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বায়ু দূষণও বাড়তে থাকে। বস্তুকণার দূষণের মাত্রা রাত একটায় প্রতি ঘনমিটার বায়ুতে ২৪৯ মাইক্রোগ্রামে পৌঁছায় যা মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
শব্দদূষণ প্রসঙ্গে ড. আহমদ কামরুজ্জমান বলেন, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের ফলে বায়ু দূষণের পাশাপাশি মারাত্মক শব্দ দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম. শহিদুল ইসলাম, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, ইন্সটিটিউশন অফ ফরেস্টার্স বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান মুকুল, বাংলাদেশ ইন্সটিউট অফ প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, গবেষক ও লেখক আশিকুর রহমান সমী, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদুজ্জামান মজুমদার, কিডস টিউটোরিয়াল স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ওয়াজিহা জামান প্রমূখ।



