আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ ও মনিপুর সীমান্তবর্তী চিন প্রদেশ এখন জান্তা সরকারের হাতছাড়া। বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার জেরে জান্তা সেনার গতিবিধি এখন রাজধানী নাইপিদো, বাণিজ্য রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ কিছু শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
মরণপণ প্রতিরোধ নয়, গত এক মাসে রাখাইন এবং চিন প্রদেশের একের পর এক ঘাঁটি বিনাযুদ্ধে বিদ্রোহীদের হাতে তুলে দিয়েছে মিয়ানমার সেনারা। সে সঙ্গে ক্রমশ বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে জনসাধারণের। এ পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়ছে জান্তা সরকারের। সম্প্রতি ইয়াঙ্গুনের হামাউবি টাউনশিপে নারী অফিসার ক্যাডেটদের ‘পাসিং আউট’ অনুষ্ঠানে জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের বক্তৃতায়ও সেই উদ্বেগ ধরা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচির সমর্থক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইরাওয়াদি’ জানিয়েছে, মিয়ানমারের আম-জনতার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য সদ্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী সেনা অফিসারদের কাছে অনুরোধ করেছেন জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং।
খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের গত এক বছরের গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীদের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে চলতি মাসে। চলতি মাসের গোড়ার দিকে বিদ্রোহী জোট ‘থ্রি ব্রাডারহুড অ্যালায়েন্স’-এর বৃহত্তম শরিক আরাকান আর্মি দখল করে নেয় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন প্রদেশ। এর পরে রোববার রাতে মনিপুর লাগোয়া চিন প্রদেশের দখল নিয়ে নিয়েছে বিদ্রোহী জোটের আরেক শরিক!
বুধবার আরাকান আর্মি এবং তাদের সহযোগী কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি ইরাবতী নদীর অববাহিকায় অবস্থিত থান্ডওয়ে নৌঘাঁটি এবং অদূরের গাওয়া শহর দখল করে নিয়েছে। গত ১৩ মাসের গৃহযুদ্ধে এ প্রথম ইরাবতী অববাহিকায় অনুপ্রবেশ করল বিদ্রোহীরা। গাওয়ার অদূরে সৈকত শহর এনগাপালিতে জান্তা সেনার ‘ওয়েস্টার্ন কমান্ড’-এর সদর দপ্তরও বিনা যুদ্ধে বিদ্রোহী বাহিনীর কব্জায় চলে গেছে বলে সূচি সমর্থক গণতন্ত্রপন্থিরা দাবি করেছেন।
গাওয়া শহর থেকে সড়ক পথ গেছে সোজা রাজধানী নাইপিদো এবং বাণিজ্য রাজধানী ইয়ঙ্গুনের দিকে। এর ফলে জান্তা সরকার অস্তিত্বের সংকটে পড়তে চলেছে বলে সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন। এই আবহে জান্তার উপর চাপ বাড়িয়েছে সাদা পতাকা নিয়ে সেনাদের আত্মসমর্পণের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী এক মাসের মধ্যে জান্তার পতন হতে পারে। কারন দ্রুত একের পর শহর এবং সেনাদের দপ্তর হাতছাড়া হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে নেই ক্ষমতাসীন জান্তা প্রধান।



