আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অবশেষে কার্যকর হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা বিলম্বের পর স্থানীয় সময় (রোববার) বেলা সোয়া ১১টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৮টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এই সময়ের পর গাজায় হামলা চালায় ইসরাইল। এ হামলায় অন্তত ১০ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। তবে যুদ্ধ বিরতি ঘোষনার পরপরই হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নারী পুরুষ বিধ্বস্ত ভিটেয় ফিরতে শুরু করেছেন।
হামাসের সামরিক শাখা আল কাসসাম ব্রিগেডস-এর মুখপাত্র আবু ওবাইদা তিন নারী বন্দির নাম প্রকাশ করেন। তাঁরা হলেন—রোমি গোনেন (২৪), এমিলি দামারি (২৮) ও দোরোন সাতানবার খাইর (৩১)।
ইসরাইল নিশ্চিত করে যে, তারা চুক্তির প্রথম দিনে মুক্তি পাবে এমন তিনজন বন্দির নাম পেয়েছে। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম দিনে যুদ্ধবিরতি এবং তিনজন ইসরাইলি বন্দিসহ প্রায় ৯৫ জন ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি এর জন্য নিজের কৃতিত্ব দাবি করেছেন। কীভাবে এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হবে, তাও তুলে ধরেন তিনি। হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসে এক ভাষণে বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন।
বাইডেন বলেন, তিন ধাপে এ যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হবে। প্রথম ধাপ ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হবে। দ্বিতীয় ধাপে যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং তৃতীয় ধাপে হবে গাজার পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিরোধিতা করে ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির পদত্যাগ করেছেন। ইতামার ইসরাইলের কট্টর জাতীয়তাবাদী-ধর্মীয় দল জিউইশ পাওয়ার পার্টির নেতা।
ইতামারের দলের দুই সদস্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন।
ইতামারের দল এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোর বিরোধিতা করে আসছে। তারা এটিকে ‘কলঙ্কজনক’ যুদ্ধবিরতি চুক্তি বলে অভিহিত করেছে।



