বাংলাগেজেট রিপোর্ট : সারা দেশে ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন করছে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ মেডিকেলের চিকিৎসক ডা. রুকনুজ্জামান।
শাটডউন কর্মসূচিতে রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে ৪জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। হস্পতিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টায় উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় আন্দোলনকারীদের দিকে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ।
দাবি আদায়ে শাটডউন কর্মসূচিতে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল থেকেই বিক্ষোভ শুরু করে আন্দোলনকারীরা। উত্তরা আজমপুর এলাকায় নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সাথে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের গুলিতে এ পর্যন্ত ৪জন শিক্ষার্থী মৃত্যুর খবর মিলেছে।
সকাল সোয়া দশটায় ব্রাক ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা বিক্ষোভ করে রাস্তায় নেমে আসে। এরপর ইস্টওয়েস্ট, নর্থ সাউথ ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ছাত্ররা মিছিল সহকারে রাজপথে অবস্থান গ্রহণ করে। উত্তরার আজমপুর বাস স্ট্যান্ডের দিকে অবস্থান নেয় তারা। অন্যদিকে বিএসএস সেন্টারের সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। আন্দোলনকারীরা বিএনএস সেন্টারের দিকে আগালে পুলিশ তাদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ শুরু করে। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় কোটা আন্দোলনকারীরা।
পরে আবার সংঘবদ্ধ হয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা রামপুরা টিভি সেন্টারে অগ্নিসংযোগ করে। মিরপুর ১০ নম্বর দফায় দফায় সংঘর্ষে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ৭টি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়।
কোটা আন্দোলনকারীদের ডাকে চলা “শাটডউনে” শিক্ষার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ ছাড়াও রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর, শনির আখড়া, কাজলা ও যাত্রাবাড়ী, মেরুল বাড্ডাসহ আরও কিছু জায়গায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আবার কোথাও কোথাও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলে।
বুধবার ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আসিফ মাহমুদ।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর হামলার প্রতিবাদ, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও একদফা দাবিতে ১৮ জুলাই সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করছি।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, অ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারা দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি আগামীকালকের কর্মসূচি সফল করুন।’



