আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি আনন্দ ছুঁয়ে গেছে গাজায় কর্মরত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের মাঝেও। বহুদিন ধরে সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার পর, এখন তারা নিরাপদে ঘরে ফেরার এবং নিজেদের কাজ পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন।
আল জাজিরা জানিয়েছে, শনিবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগের ঘণ্টাগুলোতে গাজার সাংবাদিকরা নাসের হাসপাতালের সামনে একত্রিত হন। এই সময় তারা নিহত সহকর্মীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এবং সর্বশেষ পরিস্থিতির ওপর তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি নেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণলায়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী গাজায় ২০০ এরও বেশি সাংবাদিককে হত্যা করেছে, এর পাশাপাশি অনেক সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর রোববার রাতে হাজার হাজার ইয়েমেনি ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে রাস্তায় উদযাপন করেছেন এবং নৃত্য পরিবেশন করে।
এদিকে যুদ্ধ বিরতির পর গাজায় ৬শ ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে। এসব ট্রাকে জ্বালানী ছাড়াও শুকনো খাবার আছে। তবে তিন শতাধিক ট্রাক উত্তর গাজার দিকে চলে গেছে।
এদিকে হামাস তিন নারী বন্দিকে মুক্তি দেয়ার পর ইসরাইল ৯০ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। বিধ্বস্ত গাজায় ফিরে হাজার হাজার পরিবার চোখে অন্ধকার দেখছেন। এখন একমাত্র ত্রাণই তাদের ভরসা।
এলাকায় ফেরার পরেই চলছে উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বেরিয়ে আসছে লাশের সারি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২ লাশ উদ্ধার হয়েছে।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬০ জন নিহত হয়েছে এবং আরো ৬২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, নিহত ও আহতের সংখ্যা আরো বেশি। এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় আটকা পড়ে আছে। উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে না পারায় সঠিক সংখ্যা বলা যাচ্ছে না।



