আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে শিক্ষাব্যবস্থার ধ্বংস ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় কেমব্রিজে শুরু হয়েছে শিক্ষার্থীদের এক অনন্য আন্দোলন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং গাজার শিক্ষা পুনর্গঠনে সহায়তার দাবিতে তাঁবু টানিয়ে ক্যাম্প গড়ে আন্দোলন শুরু করেছেন।
সোমবার (২ জুন) কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ট্রিনিটি কলেজ ক্যাম্পাসের ঐতিহাসিক “নিউটন গাছের” নিচে একটি প্রতিবাদ ক্যাম্প স্থাপন করেন। এই গাছটি সেই বিখ্যাত আপেল গাছের বংশধর বলে বিশ্বাস করা হয়, যার নিচে বসে আইজ্যাক নিউটন মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব নিয়ে চিন্তা করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় যেন ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসসহ যেসব কোম্পানি ইসরায়েলকে সমর্থন বা অস্ত্র সরবরাহ করে, তাদের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্পর্ক শেষ করে।
প্রতিবাদ শুরু হতেই ট্রিনিটি কলেজ কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের ওই অংশ ঘিরে দেয় কাঠ ও ত্রিপল দিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। ফলে আন্দোলনকারীরা তাঁদের তাবু স্থানান্তর করে পাশের সেন্ট জনস কলেজের সামনে যান। পরিচয় গোপন রাখার জন্য অনেক শিক্ষার্থী মুখ ঢেকে রাখেন এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানান।
হ্যানকক ডেভিস নামে এক শিক্ষার্থী আনাদোলু সংস্থাকে বলেন, “কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা এলবিট সিস্টেমসে কোটি কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে। অথচ আমাদের দাবির প্রতি তাদের একমাত্র উত্তর—প্রতিবাদ দমন। নিজেদের আর্থিক লাভের উৎস নিয়ে তারা কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না।” তিনি বলেন, “ট্রিনিটি কলেজ আমাদের বার্তা বুঝতে চায় না। আমরা চাই, তারা এমন প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের দূরে রাখুক যারা গণহত্যায় জড়িত। আমাদের এখানে পড়ার কথা, কিন্তু পাশে যারা রক্তময় অর্থে লাভবান হয়, তাদের সঙ্গে থাকতে চাই না।”



