ডেস্ক রিপোর্ট : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক শুল্ক আরোপের ঘোষণার আশঙ্কায় কয়েকদিন ধরে বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল সোনার দাম। এতে সোনার দামে রেকর্ড সৃষ্টি হয়। ঘোষণার আগে প্রতি আউন্স সোনার দাম রেকর্ড ৩ হাজার ১৬২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর সোনা বড় দরপতনের মধ্যে পড়েছে। একদিনেই প্রতি আউন্স সোনার দাম ৭০ ডলারের ওপরে কমে গেছে।
একইসাথে বিশ্বব্যাপী শেয়ার বাজারে বড় বিপর্যয় দেখা গেছে।
বুধবার থেকে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড়সড় ধস নেমেছে এবং প্রায় সব রকম বাজারেই এই ঘোষণা প্রভাব ফেলেছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক নাসডাক ফিউচার্স ৩.৩ শতাংশ পড়ে যায়, যার ফলে প্রযুক্তি খাতের সাতটি বড় কোম্পানির বাজার মূলধন প্রায় ৭৬০ বিলিয়ন ডলার কমে যায়। অ্যাপলের শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি, ৭ শতাংশ পতিত হয়। এছাড়া এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স ২.৭ শতাংশ এবং ইউরোপিয়ান ফিউচার্স প্রায় ২ শতাংশ কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশের বাজারে নগন্য হলেও ক্ষমতার সংকট দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার আগের দিন এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো ছিল চাঙ্গা।
বৃহস্পতিবার বাজার খোলার সাথে সাথেই অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার সূচক পতন শুরু করে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, টোকিওর নিক্কেই সূচক প্রাথমিকভাবে ৩.৯ শতাংশ পড়েছিল, কিন্তু পরে তা কিছুটা পুনরুদ্ধার করে এবং পতনের হার ২.৯ শতাংশে গিয়ে দাঁড়ায়। হংকং ও সাংহাই বাজারে একই রকম পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের পর মার্কিন ডলারের দরপতন ঘটেছে এবং ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীরা এবার ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্কের দিকে ঝুঁকছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার মার্কিন ডলার সূচক ১.৬ শতাংশ কমে ১০২.০৩ এ পৌঁছেছে, যা অক্টোবরের পর থেকে সর্বনিম্ন।
ক্যাপিটাল ডটকমের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক ড্যানিয়েলা সাবিন হ্যাথন উল্লেখ করেন, বর্তমান অর্থনৈতিক প্রভাব ১৯৩০-এর দশকের স্কুট-হাওলি শুল্কের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। ১৯৩০ সালে স্কুট-হাওলি শুল্ক আইন প্রণয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি কর বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং মহামন্দাকে আরও খারাপ করে তুলেছিল।



