ডেস্ক রিপোর্ট : কোরবানির ঈদ মুসলমানদের ত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই দিনে প্রিয় পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন মুসলমানরা। তবে গরু কোরবানির সময় শরীয়তের নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোরবানির নিয়ম:
কোরবানি জন্য গরু হতে হবে নির্দিষ্ট বয়সের—কমপক্ষে দুই বছর পূর্ণ হতে হবে। পশুটি সুস্থ, চোখ, শিং ও পা সম্পূর্ণ অক্ষত থাকা হবে। কোরবানি দেওয়ার আগে নিয়ত করা এবং “বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবার” বলে জবাই করা জরুরি। ইসলামি শরীয়তে কোরবানির সময় ধারালো ছুরি ব্যবহার করা এবং পশুকে কম কষ্ট দিয়ে দ্রুত জবাই করাই উত্তম।
প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কোরবানির স্থানে পানি, চুন ও ব্লিচিং দিয়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। পশুকে বিশ্রাম দিয়ে জবাই স্থানে নিয়ে যেতে হবে, যেন সেটি ক্লান্ত না থাকে। জবাই করার সময় পশুর চোখ ঢেকে দেওয়া, অন্য পশুর সামনে জবাই না করা এবং জবাই শেষে রক্ত ঝরে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভালো।
ছুরি ডান হাতে অথবা উভয় হাতে ধরা উত্তম। ছুরি চালানোর সময় পশুর গলার মূল তিনটি অঙ্গ কেটে দিতে হয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে খাদ্যনালি, দ্বিতীয়টি শ্বাসনালি, তৃতীয়টি হচ্ছে শ্বাসনালির দুই পাশে দুটি রগ রয়েছে সে দুটি। যদি ঠিকমতো এই অঙ্গগুলো কেটে দেয়া যায়, তাহলে গরু দশ থেকে পনেরো মিনিটের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়বে। এভাবে জবাই করা সুন্নত।
গরু কোরবানির পর যথাযথভাবে চামড়া ছাড়ানো, মাংস কাটাকাটি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। জীবাণুমুক্ত পরিবেশ রক্ষা করতে হলে কোরবানির পর বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
বর্তমানে অনেকেই ভ্রাম্যমাণ কসাই বা অস্থায়ী জবাইকারদের দিয়ে কোরবানি করান। এক্ষেত্রে সচেতন থাকা জরুরি—যেন তারা শরীয়ত মোতাবেক জবাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা না দেখায়।
তাই আমরা যারা পশু কোরবানি করবো, অবশ্যই আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে আমাদের কোরবানি সম্পূর্ণরুপে সঠিক হয় এবং এর জবাই প্রক্রিয়া রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দেখানো সুন্নত অনুযায়ী হয় ।



